কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একের পর এক চুক্তি ভঙ্গ, চলমান আলোচনার মধ্যেই সামরিক হামলা এবং আঞ্চলিক সংঘাত ইরানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাস তৈরি করেছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া কার্যত ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছে।
মরতাজাভি বলেন, “আমি ইরানি সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি, তারা বলেছে- আমরা প্রতিবার আলোচনায় যাই, কিন্তু আমাদের আঙুল ট্রিগারের ওপর থাকে। কেননা, আমরা আশঙ্কা করি যে, আকাশ থেকে বোমা নেমে আসতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, ইরানের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক পদক্ষেপ কার্যত যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মধ্যে ২০২০ সালে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার ঘটনা, গত বছরের পারমাণবিক আলোচনার সময় চালানো হামলা এবং বর্তমান সংঘাত পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্য।
তার ভাষায়, “দুটি যুদ্ধ হয়ে গেছে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে, কিন্তু কোনও অর্জন হয়নি। আর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো-আলোচনার শর্তগুলো প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বারবার পরিবর্তিত হচ্ছে।
নেগার মরতাজাভি আরও অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে ইরানের মানচিত্রকে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার রঙে উপস্থাপন করা হয়, তা কূটনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করেছে।
তিনি বলেন, “ভাবুন, আপনি একজন ইরানি আলোচক বা সর্বোচ্চ নেতা- আপনি এমন একটি কার্টুনধর্মী উপস্থাপনা দেখছেন যেখানে ইরানকে লাল, সাদা ও নীল রঙে দেখানো হয়েছে। এটি কি আলোচনাকে সহায়তা করে? একেবারেই না।”
তিনি আরও বলেন, তেহরানে এখন এমন এক মনোভাব তৈরি হয়েছে যে, ‘চলুন দেখি পরবর্তী পোস্ট বা মন্তব্য কী আসে’।
মরতাজাভির মতে, এই পরিস্থিতি শুধু ইরান নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। তার মন্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলছে। সূত্র: আল-জাজিরা
0 Comments
No Comment YetLeave A Reply