রাজনৈতিক দলগুলোর সূত্রে জানা যায়, এখানে ৪৬ থেকে ৪৮ শতাংশ সনাতন ধর্মের ভোটার। আসনটির পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতেও সনাতনী প্রার্থীদের জয়ের সংখ্যাই বেশী। নব্বই পরবর্তী ৮টি নির্বাচনের মধ্যে শুধুমাত্র ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মাত্র একবার এই আসনে বিএনপি প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। আসনটিতে বিজয়ী প্রার্থী হিসেবেও সনাতনী ধর্মাবলম্বীরাই বারবার বিজয়ী হয়েছেন। নব্বই পরবর্তী নির্বাচনগুলোর মধ্যে একবার শেখ হারুনুর রশীদ ও একবার শেখ হাসিনা নির্বাচিত হয়েছেন, বাকি নির্বাচনগুলোতে বিজয়ী হয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রার্থীরাই।
এবারের নির্বাচনেও এই আসনে সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রার্থীর সংখ্যাও বেশী। মনোনয়ন জমা দেয়ার পর এই আসনে মোট বৈধ প্রার্থী রয়েছেন ১০ জন। যাদের মধ্যে ৬ জন সনাতন ধর্মের। এই আসনে এবার চমক দেখিয়েছে জামায়াত ইসলামী। প্রথমবারের মতো তারাও সনাতন ধর্মের কাউকে প্রার্থী করেছে। এ আসনে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী। যিনি জামায়াত ইসলামীর ডুমুরিয়া উপজেলা সনাতনী শাখার সভাপতি।
এছাড়া বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন পাঁচবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া আমীর এজাজ খান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কিশোর কুমার রায়, ইসলামী আন্দোলনের আবু সাঈদ, সম-অধিকার পার্টির (বিইপি) সুব্রত মণ্ডল, খেলাফত মজলিসের ফিরোজুল ইসলাম, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির (বিএমজেপি) প্রবীর গোপাল রায়, স্বতন্ত্র সুনীল শুভ রায়, জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর হোসেন ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) প্রসেনজিৎ দত্ত। এসব প্রার্থীর মধ্যে একাধিক সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থিতার অভিজ্ঞতা রয়েছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমীর এজাজ খানের।
এছাড়া দশম সংসদে নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সুনীল শুভ রায় অংশ নেন। ইসলামী আন্দোলনের আবু সাঈদও আগে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া অন্য দলগুলোও জয়ের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছে।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমীর এজাজ খান বলেন, ‘আসনটিতে তিনি বিএনপির পক্ষে মানুষকে একত্রিত করতে সমর্থ হয়েছেন। প্রতি নির্বাচনেই এখানে বিএনপির সমর্থন ও ভোটার বেড়েছে। বিগত নির্বাচনগুলোর ফলাফলে মানুষ প্রতারিত হয়েছে। তারা এখন পরিবর্তন চায়। সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও প্রতারিত হয়েছেন। তারাও পরিবর্তন চান। এখনও মানুষকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে মানুষ বিএনপির পক্ষে একজোট হচ্ছে।’
অন্যদিকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীও মনে করেন পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিতে হলে জামায়াতকেই ভোট দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘এখন আনুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারণা নেই। তবুও মানুষ বিভিন্নভাবে তার পক্ষে কাজ করছেন। হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা হলেও শুধু হিন্দু নয়, সব মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি।’
দাকোপ এলাকার নাগরিক নেতা অ্যাড. নিতাই গোলদার বলেন, ‘প্রার্থীরা নানাভাবে তাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে এবার ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে হলে প্রার্থীদের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে। আমার ধারণা এখানকার ভোটাররা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে আমরা আশা করবো যে প্রার্থীই বিজয়ী হবেন, তিনি উপকূলীয় নানা সংকট সমাধানে ভূমিকা রাখবেন।’
0 Comments
No Comment YetLeave A Reply