‘যত নীতিকথা তত ফাঁপা’
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘এবার ফিরাও মোরে’ কবিতা উদ্ধৃত করে আবুল মোমেন বলেন, ‘মনে রাখবেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক কথাবার্তায় চেতনা আর নীতিকথার কোলাহল যত বাড়ে, বুঝতে হবে সমাজের ভেতরটা ততই ফাঁপা।’
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাম্যবাদী’ কবিতা উদ্ধৃত করে আবুল মোমেন বলেন, ‘এই সময়ে, যখন মানুষের উত্তেজনা–ক্ষোভ-ক্রোধ প্রকৃত বীরত্বের প্রকাশ না ঘটিয়ে কাপুরুষের মবতন্ত্রের জন্ম দেয়, তখন বিদ্রোহী কবির জোরালো ভাষায় রচিত বাণীর মনুষ্যত্বের বার্তা আপনার–আমার সঠিক তন্বীতে ঘা দেবে বলেই আমার বিশ্বাস।’
শিক্ষায় বৈষম্য
বক্তৃতায় বাংলার অর্থনৈতিক ইতিহাস, ঔপনিবেশিক শোষণ ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার বৈষম্য নিয়ে আলোচনা করেন আবুল মোমেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঊনবিংশ শতাব্দীর কলকাতায় জাগরণ-আন্দোলনের ঘটনা ঘটে। কিন্তু আজ ২০০ বছরে সবার জন্য শিক্ষার, বিশেষত শিক্ষার মানের, সমতা নিশ্চিত করা যায়নি; বরং শিক্ষা আজ নানা ধারায় বিভক্ত। বিত্তের ভিত্তিতে ধনী-মধ্যবিত্ত-দরিদ্রের শিক্ষায়ও হেরফের হচ্ছে।
আবুল মোমেন বলেন, ‘শিক্ষার বৈষম্য এবং মননঘাটতির এই ধারা সরকার কীভাবে কখন দূর করবে, আমরা জানি না। তবে সবার জন্য মানসম্পন্ন অভিন্ন শিক্ষার দাবি তুলতে ভুললে চলবে না।’
‘অচলায়তন নিয়ে ভাবা জরুরি’
সমাজের সাংস্কৃতিক প্রবণতা, চিন্তাধারার সীমাবদ্ধতা ও পরিবর্তনের প্রতি প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বক্তৃতায় আবুল মোমেন বলেন, বাঙালি স্বভাবত সামাজিক প্রবণতা হলো অভ্যস্ত পথে চলা, পরিচিত মহলের অভ্যন্তরে থাকা। এটা ঠিক, নানা অনিয়ম আর স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে তারা অনেকবার তেড়েফুঁড়ে জেগে উঠেছে। আন্দোলনকে অভ্যুত্থানে রূপ দিয়েছে, বিদ্রোহকে বিপ্লবী পথে চালিত করতে পেরেছে। কিন্তু তা রাষ্ট্রীয় অঙ্গনে পরিবর্তন ঘটালেও সমাজবদলের কাজে সার্থক হয়নি। তাই এই প্রতিবন্ধক বা অচলায়তন নিয়ে আরও বেশি করে ভাবা জরুরি।
0 Comments
No Comment YetLeave A Reply