শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ইসরাইল দাবি করেছে যে, তারা গাজা সিটিতে বিমান হামলা চালিয়ে জ্যেষ্ঠ হামাস কমান্ডার রায়েদ সাদকে হত্যা করেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বিবৃতি এবং ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ইসরাইলি গণমাধ্যম জানায়, গাজা সিটিতে একটি গাড়ি হামলার শিকার হয়ে সাদ নিহত হয়েছেন। তবে, গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় চারজন নিহত এবং কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি যে নিহতদের মধ্যে সাদও রয়েছেন।
এদিকে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, তবে প্রাথমিকভাবে তার নাম বা আরও বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
অন্যদিকে, একজন ইসরাইলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা পরে বলেছিলেন যে সাদই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন এবং তাকে হামাসের অস্ত্র উৎপাদন বাহিনীর প্রধান হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
হামাস সূত্র জানিয়েছে, ইজ্জেলদিন আল-হাদাদের পরে গোষ্ঠীর সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেডের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডও ছিলেন সাদ।
এছাড়া ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এই হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন, নেতানিয়াহুর কার্যালয় সরাসরি সাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি, তবে ইসরাইলি গণমাধ্যম জানিয়েছে যে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী পরে আরও বলেছে, শিন বেট গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় এই হামলা চালানো হয়েছিল এবং গাজায় হামাসের অস্ত্র উৎপাদন সুবিধা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল।
এই রায়েদ সাদ কে?
ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের একটি তথ্যপত্র অনুসারে, হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা, সাদ ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেডের সামরিক কাউন্সিলের সদস্য।
ইসরাইল জানায়, সাদ গ্রুপটির অপারেশন এবং অস্ত্র উৎপাদন বিভাগের প্রধান ছিলেন এবং গাজা উপত্যকার অভ্যন্তরে হামাসের শেষ সিনিয়র নেতাদের একজন হিসেবে সক্রিয় ছিলেন।
এর আগে নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেয়া বিবৃতিতে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী সাদকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে সংঘটিত হামাসের হামলার ‘অন্যতম স্থপতি’ বলে অভিযুক্ত করেছেন, যেখানে হামাসের নেতৃত্বাধীন যোদ্ধারা প্রায় ১,২০০ জনকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে। ইসরাইলি পরিসংখ্যান অনুসারে।
হামাস সূত্র জানিয়েছে যে সাদ পূর্বে হামাসের গাজা সিটি ব্যাটালিয়নের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যা গ্রুপটির অন্যতম বৃহত্তম ইউনিট।
৭ অক্টোবরের হামলার পর গাজা যুদ্ধ শুরু হয়। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ইসরাইলি সামরিক প্রতিক্রিয়ায় ৭০,৭০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
Share On:
0 Comments
No Comment YetLeave A Reply