ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ শনিবার ১৩৯টি যুদ্ধ সংঘর্ষের কথা জানায়। বলা হয়, রাশিয়া ৩৩টি বিমান হামলা চালিয়েছে। ৪ হাজার ৪৩০টিরও বেশি ড্রোন ছুড়েছে এবং ইউক্রেনীয় সেনা ও বসতিতে ২ হাজার ৮৩০টি আক্রমণ চালিয়েছে।
ইউক্রেনীয় যুদ্ধক্ষেত্র পর্যবেক্ষণ সাইট ডিপস্টেট অনুসারে, রুশ বাহিনী ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের মার্কোভ এবং ক্লেবান-বাইক গ্রামের দিকে আরও অগ্রসর হয়েছে। তবে অন্য কোনো বড় পরিবর্তনের খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে ইউক্রেনের লভিভ অঞ্চলে হাইপারসনিক ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করল মস্কো। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাশিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়, ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনা ও ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র লক্ষ্য করে রাতভর চালানো ব্যাপক হামলার অংশ হিসেবেই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ডিসেম্বরের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একটি বাসভবনে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলার চেষ্টার জবাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
সেদিন ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন। এছাড়া হাজার হাজার অ্যাপার্টমেন্ট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান টাইমুর তাকাচেঙ্কো শনিবার জানান, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য দেশটির ইঞ্জিনিয়াররা ‘চব্বিশ ঘন্টা’ কাজ করছেন। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিটসকো বলেন, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন প্রায় অর্ধেক বাড়িতে তাপ সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, শনিবার দক্ষিণ-পশ্চিম রাশিয়ার ভোরোনেজে শহরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন। এর আগে ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সীমান্তবর্তী রাশিয়ার বেলগোরোড অঞ্চলের ৬ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। তাপ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বাসিন্দারা।
ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার ভলগোগ্রাদ অঞ্চলেও একটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার ফলে ওকটিয়াব্রস্কি জেলার একটি তেল ডিপোতে আগুন লাগে বলে জানায় আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ। রুশ কর্তৃপক্ষ বলছে, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রাণহানির খবর নেই। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে।
0 Comments
No Comment YetLeave A Reply