নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইপিএল সূত্র পিটিআইকে বলেন, 'আইপিএলের সব খেলোয়াড়ের বেতন বিমার আওতায় থাকে। বিদেশি খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সাধারণত দল ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর বা টুর্নামেন্ট চলাকালে চোট পেলে ফ্র্যাঞ্চাইজি অর্থ পরিশোধ করে। সাধারণত বিমা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দেওয়া হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও ভালো, কারণ তারা সাধারণত বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে অর্থ পান।'
তবে মোস্তাফিজের বিষয়টি প্রচলিত বিমা শর্তের আওতায় পড়ে না। যেহেতু তাকে চোট বা ক্রিকেটসংক্রান্ত কোনো কারণে নয়, বরং প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তাই চুক্তিগতভাবে কলকাতার তাকে কোনো অর্থ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।
সূত্রটি আরও বলেছে, 'বিমা দাবি করার ক্ষেত্রেও বর্তমান পরিস্থিতিটি অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে কলকাতার পক্ষে এক টাকাও দেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক দায় নেই। এটা দুর্ভাগ্যজনক, কিন্তু মোস্তাফিজের সামনে খুব বেশি বিকল্প নেই—আইনি পথ নেওয়া ছাড়া। আর আইপিএল ভারতীয় আইনের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় কোনো বিদেশি ক্রিকেটারই এমন ঝামেলায় যেতে বা কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (সিএএস)-এর পথে হাঁটতে চাইবেন না।'
এছাড়া বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাও আইনি পদক্ষেপে নিরুৎসাহিত করছে বলে মত ওই সূত্রের। তার ভাষায়, 'ভারত–বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভারত–পাকিস্তান সম্পর্কের চেয়েও বেশি পরিবর্তনশীল। আগামী বছর পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। তাহলে কে আইনি লড়াইয়ের ঝুঁকি নেবে?'
সব মিলিয়ে, বড় অঙ্কের চুক্তিতে দলে নেওয়া এবং কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গ বা পেশাগত ত্রুটি না থাকা সত্ত্বেও মোস্তাফিজকে খালি হাতেই ফিরতে হতে পারে। এই ঘটনা খেলাধুলার বাইরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে খেলোয়াড় সুরক্ষার সীমাবদ্ধতাকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে আইপিএল সম্প্রচারে দেশীয় অপারেটরদের নিষেধাজ্ঞাও দেয়া হয়েছে।
0 Comments
No Comment YetLeave A Reply